রিস্ট্যাড এনার্জির প্রতিবেদন

এশিয়ায় কয়লার চাহিদা বাড়তে পারে ১০ কোটি টন

চলতি বছর এশিয়ায় থার্মাল কয়লার চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।

নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে চলতি বছর এ অঞ্চলে কয়লার চাহিদা বেড়ে ১০ কোটি টনে দাঁড়াতে পারে। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি বাজারের ওপর। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চরম সংকট তৈরি হয়েছে। চলতি বছর এশিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন এলএনজির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কাতারের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এশিয়ার বাজারে বছরে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়ার স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ চড়া দাম ও তীব্র ঘাটতির কারণে এশিয়ার দেশগুলো বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে। বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় এড়াতে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সরকারও কয়লা ব্যবহারের ওপর থেকে আইনি বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, এ পদক্ষেপ এশিয়ার দেশগুলোর পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসা নয়, বরং এলএনজির আকস্মিক ঘাটতি মেটানোর একটি সাময়িক প্রচেষ্টা মাত্র। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এখন তাদের চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালাতে বাধ্য হচ্ছে।

রিস্ট্যাড এনার্জির প্রাক্কলন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের জেরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১৫ কোটি টন থার্মাল কয়লা ব্যবহার হতে পারে। গ্যাসের বাজার যদি ২০২৬ সালজুড়েই এমন উত্তপ্ত থাকে, তবে এশিয়ায় কয়লার ব্যবহার চলতি বছরই প্রায় সাত কোটি টন বাড়তে পারে। যদি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় উত্তেজনা বা যুদ্ধ শুরু হয়, তবে কেবল ২০২৬ সালেই চাহিদা বাড়ার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টনে গিয়ে ঠেকবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ চাহিদা বৃদ্ধি নতুন কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কারণে হচ্ছে না, বরং সচল থাকা কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য হচ্ছে। যেমন জাপানে গ্যাসের ব্যবহার ১৩ শতাংশ কমলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১১ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে মে মাসে কয়লা আমদানি গত বছরের চেয়ে যথাক্রমে ৫০ ও ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে কয়লার প্রত্যাবর্তন নয়। বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের চেয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারণ বর্তমানে ভারত, চীনসহ এশিয়ার প্রধান দেশগুলোয় রেকর্ড পরিমাণ বিকল্প জ্বালানি ও কয়লার শক্তিশালী মজুদ রয়েছে। বিশ্ববাজারে কয়লার দাম নির্ধারণের প্রধান আদর্শ মানদণ্ড ‘নিউক্যাসল ছয় হাজার কিলো ক্যালরি’ কয়লার দাম ২০২৬ সালে টনপ্রতি গড়ে ১২৫ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে ২০২৭ সালের দিকে জাপানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আবার চালু এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে ১১৫ ডলারে নামতে পারে। গ্লেনকোর বা বিএইচপির মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খনি কোম্পানিগুলো নতুন কোনো বড় প্রকল্পের ঘোষণা না দেয়ায় স্পষ্ট যে ব্যবসায়ীরাও এ পরিস্থিতিকে সাময়িক হিসেবেই দেখছেন।

আরও